বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সম্পর্কে বিস্তারিত সব
বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ (বঙ্গবন্ধু-১), আগামী ০৫ মে, ২০১৮ উৎক্ষেপণ করা হবে, এমন টাই পরিকল্পনা করে হচ্ছে।
আসুন এই সম্পর্কে কিছু তথ্য যেনে নেই………
বঙ্গবন্ধু-১ (ইংরেজি: Bangabandhu-1) বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ। এটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। যার উৎক্ষেপনের খরচ ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা । এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা নিজেদের তহবিল থেকে এবং বাকি ১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ হিসাবে নেওয়া হয়েছে।
মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি হয়।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে কাঙ্খিত এ স্যাটেলাইট তৈরিতে কোম্পানিটির সঙ্গে এক হাজার ৯৫১ কোটি টাকার চুক্তি করেছিল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।
মাত্র সাত বছরেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের খরচ ৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকার পুরোটাই উঠে আসবে বলে হিসেব করেছে বিটিআরসি !
বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, স্যাটেলাইট থেকে আয়ের ৭০ শতাংশ আসবে বিদেশ থেকে। বাকি মাত্র ৩০ শতাংশ আয় আসবে স্থানীয় পর্যায় থেকে।
স্থানীয় আয়ের মধ্যে ২৪ টি স্যাটেলাইট টিভি থেকে বছরে আসবে অন্তত দেড় কোটি ডলার। যে পরিমান অর্থ প্রতি বছর হংকং ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে।
নিজেদের স্যাটেলাইট চালু হলে এসব চ্যানেলের তখন বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে হবে না। স্যাটেলাইটটি সরাসরি দেশে সংকেত পাঠাবে এবং প্রধান লক্ষ্যমাত্রা থাকবে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের উপর ।
বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি ভাড়া নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল, টেলিফোন, রেডিওসহ অন্যান্য যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এতে প্রতি বছর ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গুণতে হয়।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু করতে পারলে দেশে শুধু বৈদেশিক মুদ্রারই সাশ্রয়ই হবে না, সেই সঙ্গে অব্যবহৃত অংশ নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রতি বছর ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ আয় করা যাবে।
রাশিয়ার বিখ্যাত উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকে র কাছ থেকে অরবিটাল স্লটের জন্যে চুক্তি করেছে বিটিআরসি। ৫ বছর আগে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) থেকে ১০২ ডিগ্রিপূর্ব স্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ।
কিন্তু, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ এশিয়া মহাদেশের কয়েকটি দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ অন্তত ২০ টি দেশ আপত্তি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ১০২ ডিগ্রিতে স্লট চেয়েছিল। আর এখানেই এসব দেশের আপত্তি।
তথ্যসূত্র জানায়, এসব দেশের বক্তব্য; ১০২ ডিগ্রিতে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হলে তাদের স্যাটেলাইটে ফ্রিকোয়েন্সি পেতে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে বিকল্প হিসেবে ৬৯ ডিগ্রিতে আবেদন করলে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীনের মতো দেশ আপত্তি জানাতে পারে।
সে কারণে স্পুটনিকের কাছ থেকে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব মাত্র ১৫ বছরের জন্য কিনে নিচ্ছে বিটিআরসি।
মহাকাশের ১০২ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমান প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে এ স্লট। এখানেই উড়বে দেশের প্রথম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) বঙ্গবন্ধু-১।
তবে, ১৫ বছর করে আরও দুবার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, এটি চুক্তিতে উল্লেখ আছে । বাংলাদেশ অপর দুটি অরবিটাল স্লটের জন্যে আবেদন করেছে। সে দুটি হলো ৬৯ ডিগ্রি পূর্ব এবং ১৩৫ ডিগ্রি পূর্ব।
প্রথমটি বাংলাদেশের জন্যে অনেক কাজের হলেও দ্বিতীয়টি বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে হয়ে যাবে। এর মধ্যে এ দুটি অরবিটাল স্লটের বিষয়েও বেশ কিছু আপত্তি পড়েছে।
নামঃ বঙ্গবন্ধু-১
সংস্থাঃ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (স্পারসো)
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
স্পারসোঃ বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (সংক্ষেপে SPARRSO) বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও-এ অবস্থিত। ১৯৮০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রদানে এ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধান কনট্রাক্টরঃ স্পারসো, বাংলাদেশ
স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল (পরামর্শক)
মিশনের ধরনঃ যোগাযোগ
উৎক্ষেপণের তারিখঃ ০৫ মে, ২০১৮ (পরিকল্পিত)
উৎক্ষেপণ স্থান যুক্তরাষ্ট্র ফ্লোরিডা থেকে।
অভিযানের ব্যাপ্তিকালঃ ১৫ বছর
Transponders ব্যান্ডঃ (40 টি) 14 টি C ব্যান্ড এবং 26 টি Ku ব্যান্ড ।
স্যাটেলাইটের ভরঃ ১,৩০০ কেজি (২,৯০০ পাউন্ড)
স্যাটেলাইটের ক্ষমতাঃ ১,৬০০ ওয়াট
ক্ষমতার উতসঃ বিস্তৃত যোগ্য ২ টি সৌর ব্যাটারি
চালকশক্তিঃ S400
Spacecraft properties:
প্রুস্তুতকারকঃ থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস (Thales Alenia Space)
থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস ৪০ বছর ধরে সফলতার সাথে ডিজাইন, বিভিন্ন উপাদান একীভবন, মহাকাশীয় যন্ত্রপাতির পরীক্ষানিরীক্ষা করন, পথনির্দেশ, পৃথিবী পর্যবেক্ষন,পরিব েশভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণ, কক্ষপথের অবকাঠামো
এছাড়া অন্যান্য বিষয়ে কাজ করে আসছে । এই প্রতিষ্ঠানটি মিলিত উদ্যোগে গড়ে ওঠে; থ্যালেস (৬৭%) এবং স্পেস আল্যাইন্স (৩৩%) মিলে প্রতিষ্ঠানটি সেবা ও সমাধান দিয়ে থাকে ।
বাস প্লাটফর্মঃ স্পেসবাস ৪০০০ বি২ (Spacebus-4000B 2)
বাহক রকেটঃ Falcon 9 (ভার্সন ১.২) Full Thrust
বাহক রকেটের ভরঃ ৩,৫০০ কেজি (৭,৭০০ পাউন্ড)
বাহক রকেটের ক্ষমতাঃ 6 কিলোওয়াট
Comments
Post a Comment